বুধবার , ১০ জুন ২০২৬
studentnewsbd
১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে যা হলো

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের জন্য সংসদে আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সব সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে শুধু জামায়াতের আমির তাঁর আসনে বসে ছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন।
একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। এই হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে আসেন। স্পিকার তাঁকে চেয়ারে বসার অনুরোধ জানান। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তাঁর ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। এ সময় কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন।

স্পিকার এ সময় বারবার সংসদ সদস্যদের প্রতি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করার আহ্বান। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ‘ওয়াকআউট’ করার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

অন্যদিকে ভাষণ চালিয়ে যেতে থাকেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয়। এর পরপরই অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় সদস্যরা আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেননি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার কাহালুতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ট্যাপেনডান্টল ট্যাবলেটসহ আটক

চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার হলেন যুবদল নেতা

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, বিক্রি অর্ধেক দামে

ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রাণের উচ্ছ্বাস, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

ঢাবির আইবিএএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত, ডিগ্রি পেলেন ৩৬৫ গ্র্যাজুয়েট

ঈদে আসছে জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’

আবারও কলেজ র‍্যাংকিং প্রকাশ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ লেখক-পাঠক সংসদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

অনাস্থা ভোটে হেরে রোমানিয়ায় সরকারের পতন

ইফএফটিতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা, নেপথ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সফটওয়্যার

১০

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল অধিদপ্তর

১১

ত্রয়োদশ সংসদে ‘একমাত্র ভাগ্যবান দম্পতি’

১২

ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে

১৩

আগারগাঁওয়ের সরকারি সংগীত কলেজের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন একদল শিক্ষার্থী

১৪

রিভিউ হতে পারে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, কমিটির ইঙ্গিত মন্ত্রীর

১৫

“জন্ম-মৃত্যুর পরিক্রমায় প্রতীত্য সমুৎপাদ তত্ত্ব/নীতি”

১৬

বিটাকে এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি, আছে প্রশিক্ষণ ভাতাও

১৭

১৮০ দিনের মধ্যে প্রতি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে

১৮

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় তিনটি বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষকে জরিমানা

১৯

ঈদযাত্রার সময়সূচি গড়বড় হয়েছে, যে সময় রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্টেশন পরিদর্শনে আসেন

২০