Moyukh Mahbub
৪ জুন ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, বিক্রি অর্ধেক দামে

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার এ বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ালেও গাইবান্ধার হাট-বাজারে মিলছে না সেই মূল্য। সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছে এতিম ও অসহায়দের প্রাপ্য অর্থ। বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব ও ট্যানারিগুলোর ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখের পর লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধসের পেছনে বড় বড় ব্যবসায়ী এবং ট্যানারি সংশ্লিষ্টদের সিন্ডিকেটকেই দুষছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭-৬২ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

এই হিসাবে ঢাকার বাইরে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন থেকে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা ও হাটে সেই চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি দামের ন্যায্যতা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কোনো তদারকি নেই। বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। নানা অজুহাতে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করছেন চামড়া। আর এতে বাধ্য হয়ে ক্ষতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে পচনশীল এ পণ্য।

তবে, এমন অভিযোগের প্রশ্নে আড়তদার-ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সিন্ডিকেট এখানে নয়; কারসাজি চলে ঢাকায়। মূল ব্যবসায়ীদের (ট্যানারি মালিক) ওপর নির্ভর করে চামড়া কিনতে হয় স্থানীয় আড়তদারদের। অনেক ক্ষেত্রে তারাও জিম্মি রয়েছেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। মূলত ট্যানারি মালিকরা সরকারি মূল্যে চামড়া কিনছেন না।

এছাড়া চামড়ায় স্পট, কাটা-ছেঁড়া ও করোনা (লাম্পি রোগের ক্ষত চিহ্ন) থাকায় সঠিক দামে কেনা যাচ্ছে না বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মৌসুমি ব্যাপারী ও মাদরাসা বা এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা লবণ ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া সংরক্ষণ করতে না পারায় কমে যায় চামড়ার গুণগতমান। ফলে সে ক্ষেত্রেও চামড়ার দাম কমে আসে বলেও জানান তারা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাইকের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর সময়সীমা বাড়ল

১

সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে কালকের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল

২

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেলেন শিবা শানু

৩

গ্রিভসকে ফিরিয়ে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের স্বস্তি

৪

১৫ মিনিটে রোনালদোর পারফেক্ট হ্যাটট্রিক, চূড়ার বাকি ১৫ গোল

৫

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে চট্টগ্রাম এভারকেয়ারে পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

৬

দেশে দুই বছরে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত ৮ শিশু, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিড়ালের সংক্রমণ

৭

শেকৃবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিবন্ধন অনলাইনে

৮

চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

৯

নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

১০

জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

১১

বিএনপি সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

১২

জামায়াতের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী

১৩

৩৪ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষার বিস্তার হলেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা

১৪

টাইগারের ওপর হামলার পর কড়া নিরাপত্তায় প্রকাশ্যে এলেন সালমান খান

১৫

ঘুরে দাঁড়াতে নিজেদের ‘ব্র্যান্ডের’ ক্রিকেটেই আস্থা তামিমের

১৬

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

১৭

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে: প্রধানমন্ত্রী

১৮

‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’ চান লটারিতে পদায়নপ্রাপ্ত প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক

১৯

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

২০