
নদীর শীতল বাতাস, একপাশে ঐতিহাসিক শহর আর অন্যপাশে দিগন্ত বিস্তৃত পদ্মা নদী। হ্যাঁ বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের নিয়ে এসেছি সিল্ক সিটি বা শিক্ষার শহর রাজশাহীর অন্যতম সুন্দর একটি জায়গায়। যার নাম—পদ্মা গার্ডেন! আপনি যদি যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির মাঝে একটু শান্তির নিঃশ্বাস নিতে চান, তবে এই জায়গাটি আপনার জন্য পারফেক্ট। আজকের আমরা জানবো কীভাবে এখানে আসবেন, কী কী দেখার আছে এবং এখানকার স্পেশাল কী!”
পদ্মা গার্ডেন আসতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে রাজশাহী শহরে। ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি বাস, ট্রেন বা ফ্লাইটে রাজশাহী চলে আসতে পারেন। রাজশাহী রেল স্টেশন বা ভদ্রা মোড় থেকে সরাসরি ইজি বাইক কিংবা রিকশা নিয়ে চলে আসতে পারেন ঐতিহাসিক সাহেব বাজারে। সাহেব বাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ দিকে মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বেই এই পদ্মা গার্ডেন। এটি মূলত দরগাপাড়া এলাকায় অবস্থিত। যাতায়াত খরচ খুবই সাশ্রয়ী, রিকশায় ২০-৩০ টাকা আর ইজি বাইকে জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা!”
বন্ধুরা, পদ্মা গার্ডেনের পাড় ধরে পায়ে হেঁটে পশ্চিম দিকে মাত্র কয়েক গজ এগোলেই আপনারা পৌঁছে যাবেন আরেকটি চমৎকার জায়গায়, যার নাম ‘সীমান্ত নোঙর’ বা নোঙর পার্ক। এটি মূলত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) দ্বারা অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত এবং চমৎকারভাবে পরিচালিত একটি বিনোদন কেন্দ্র [০]। পদ্মা গার্ডেন যেমন পুরোপুরি উন্মুক্ত, এটি কিন্তু ঠিক তেমন নয়। এখানে প্রবেশের জন্য আপনাকে মাত্র ২০ টাকার একটি এন্ট্রি টিকিট কাটতে হবে। তবে ভেতরে ঢোকার পর আপনি যে চমৎকার ও প্রিমিয়াম পরিবেশ পাবেন, তা সত্যিই পয়সা উসুল!”
“বিজিবি-র ব্যবস্থাপনায় থাকায় এই পার্কটি দারুণ নিরাপদ এবং অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো নদীর একদম কোল ঘেঁষে তৈরি করা বসার জায়গাগুলো। শান্ত পরিবেশে ফ্যামিলি বা পার্টনারকে নিয়ে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্য রাজশাহীতে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। এছাড়া এখানে একটি আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, যেখানে আপনারা ফ্রেশ জুস, স্ন্যাক্স থেকে শুরু করে দারুণ সব ফাস্টফুড পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যখন এখানকার নিয়ন আলো আর ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলে ওঠে, তখন পুরো নোঙর পার্কের রূপ যেন রূপকথার মতো দেখায়
পার্কের ভেতরে পা রাখলেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। অনেকে এটিকে শুধু পদ্মা গার্ডেন নামে চিনলেও, এর অফিসিয়াল নাম কিন্তু ‘ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক’। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই পার্কটিকে দারুণভাবে সাজানো হয়েছে। প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো—এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন নেই! এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং উন্মুক্ত। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য খোলা থাকে। এখানে রয়েছে একটি চমৎকার মুক্তমঞ্চ, যেখানে প্রায়ই স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়।”

“ডিজিটাল যুগে এসে এই পার্কটি আপনাকে হতাশ করবে না। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সৌজন্যে পুরো পার্ক এলাকায় রয়েছে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াইফাই সুবিধা। তাই আপনি চাইলে এখানে বসে নদীর হাওয়া উপভোগ করার পাশাপাশি আপনার জরুরি কাজও সেরে নিতে পারেন। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য এখানে দোলনা ও স্লিপারসহ সুন্দর খেলার জায়গা রয়েছে, যার ফলে পরিবার নিয়ে আসার জন্য এটি একটি চমৎকার স্পট
বিকেল ৫টার পর পদ্মা গার্ডেনের রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। আকাশের বুকে যখন সূর্যটা আস্তে আস্তে পদ্মার বুকে মিলিয়ে যেতে থাকে, সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। (কয়েক সেকেন্ড ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিন, কোনো কথা বলবেন না)। আপনি চাইলে এখানকার ঘাট থেকে ছোট নৌকা ভাড়া করে পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়াতে পারেন। প্রতি ঘণ্টার জন্য নৌকা ভাড়া সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। মাঝনদী থেকে সূর্যাস্ত দেখার এই অভিজ্ঞতা আপনার রাজশাহীর স্মৃতিকে আজীবন ফ্রেমবন্দী করে রাখবে।”
পদ্মা গার্ডেন ঘুরে দেখার পাশাপাশি এর একদম কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক হযরত শাহ্ মখদুম রূপস (র.) মাজার শরীফ, রবীন্দ্র মুক্তমঞ্চ এবং বিজিবি পরিচালিত সীমান্ত নোঙর। তাই একদিনের ট্যুরে আপনারা এই সবগুলো জায়গাই কভার করতে পারবেন।তো বন্ধুরা, কেমন লাগলো রাজশাহীর এই সুন্দর পদ্মা গার্ডেন? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।
মন্তব্য করুন