
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি বাড়ির ছাদ। সারি সারি টবে নানা রঙের বাগানবিলাস। কোথাও পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে ফুল, কোথাও আবার নতুন কুঁড়ি মেলার অপেক্ষা। এই ছাদবাগান শুধু শখের জায়গা নয়, বরং একজন আইনজীবীর ভালোবাসা, ধৈর্য আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। সেই আইনজীবী হলেন সোহান চৌধুরী ।
সোহান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এনরোলড আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের এনরোলড আইনজীবী হয়েও হাইকোর্ট বিভাগে কাজ করার সুযোগ ছেড়ে নিজ গ্রামে থেকে গেছেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাড়ির ছাদে গড়ে তোলা তার স্বপ্নের বাগান।
আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার বহু আগ থেকেই গাছের প্রতি ছিল তার প্রবল টান। শুরুতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ নিয়ে ছোট পরিসরে বাগান সাজাতেন। একসময় পত্তলিকা ও মস রোজের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। এসব গাছের সমাহারে ছাদ সাজানোর পর ধীরে ধীরে নতুন এক ফুলের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে তার। সেই ফুল হলো— বাগানবিলাস।
ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে যখন তিনি একই গাছে বিভিন্ন রঙের বাগানবিলাস দেখলেন, তখন থেকেই এই ফুলটির প্রতি তার আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়। বিভিন্ন বাগানবিষয়ক গ্রুপে একই গাছে নানা রঙের বাগানবিলাস দেখে মুগ্ধ হন তিনি। সেই মুগ্ধতা থেকেই শুরু হয় নতুন জাত সংগ্রহের চেষ্টা। অনলাইনে গাছ কেনা, পরিচিতদের কাছ থেকে উপহার পাওয়া এবং নিজে কাটিং থেকে চারা তৈরি— বিভিন্ন উপায়ে বাড়তে থাকে তার সংগ্রহ।
এখন তার ছাদবাগানে রয়েছে দেড় শতাধিক জাতের বাগানবিলাস। সব মিলিয়ে এই ফুলের গাছের সংখ্যা প্রায় ২৫০। একসময় যেখানে নানা ধরনের ফুলগাছ ছিল তার মূল আকর্ষণ, সেখানে এখন বাগানবিলাসই তার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে। বর্তমানে অন্য গাছের সংখ্যা কমিয়ে এই ফুলের পরিচর্যায় বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি।
বাগানবিলাসের বৈচিত্র্য ধরে রাখা এবং গাছগুলোকে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ দিতে কয়েক মাস আগে পুরো ছাদবাগানটি নতুন করে সাজিয়েছেন। এখন অপেক্ষা আসন্ন শীতের। তার আশা, শীতের মৌসুমে নানা রঙের ফুলে ভরে উঠবে ছাদজুড়ে সাজানো বাগানটি।
আইন পেশার ব্যস্ততা আর বাগানের পরিচর্যা— দুই ভিন্ন জগতের মধ্যে নিজের মতো করে ভারসাম্য খুঁজে নিয়েছেন এই আইনজীবী। তার কাছে ছাদবাগান কেবল অবসরের বিনোদন নয়; এটি ভালো লাগার জায়গা, যেখানে প্রতিটি নতুন চারা আর প্রস্ফুটিত ফুল হয়ে ওঠে দীর্ঘদিনের যত্নের আনন্দ।
মন্তব্য করুন