
ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকে সবুজের সান্নিধ্যে সময় কাটানো, গাছের পরিচর্যা আর ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার অভ্যাস ছিল তার। সেই অভ্যাস থেকেই শখ করে বাড়ির ছাদ ও আঙিনায় গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি বাগান।
সময়ের সঙ্গে সেই বাগানই হয়ে ওঠে বাড়তি আয়ের উৎস। বলছি চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ তারেক নিহালের কথা। চাকরির পাশাপাশি বাগান করে এখন মাসে গড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগের নাম ‘বাগান বিলাস’।
ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি আলাদা টান ছিল নিহালের। শহরের কংক্রিটের পরিবেশেও সবুজের প্রতি ভালোবাসা তাকে বাগান করতে উদ্বুদ্ধ করে। শুরুতে নিজের বাড়ির ছাদ ও আঙিনায় কয়েকটি ফুল ও ফলের গাছ লাগান। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের প্রতি আগ্রহ। একপর্যায়ে উপলব্ধি করেন, পরিকল্পিতভাবে বাগান করলে তা মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের পথও তৈরি করতে পারে।
সেই ভাবনা থেকেই শখের বাগানকে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি। বিভিন্ন জাতের ফুলগাছ, ঘরের ভেতরে রাখার উপযোগী গাছ, বনসাই ও নানা ধরনের চারার উৎপাদনে মনোযোগ দেন। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গাছ নির্বাচন, সময়মতো চারা তৈরি এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে নেন নিজের উদ্যোগ।
শুরুতে প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা তার বাগান দেখতে আসতেন। তাদের আগ্রহ থেকেই গাছ বিক্রির সূচনা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের গাছ ও চারার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়লে বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যাও। এভাবেই ছোট পরিসরে শুরু হওয়া শখের বাগান ধীরে ধীরে আয়ের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।
তারেক নিহাল বলেন, ‘শুরুতে কখনও ভাবিনি, বাগান থেকে নিয়মিত আয় করা সম্ভব হবে। মানুষের আগ্রহ বাড়তে দেখেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
চাকরির পাশাপাশি বাগান পরিচালনা করা সহজ নয়। অফিসের কাজ সামলে গাছের পরিচর্যার জন্য সময় বের করতে হয় তাকে। প্রতিদিন অফিস শেষে বাগানে সময় দেন। ছুটির দিনে পরিচর্যায় ব্যয় করেন আরও বেশি সময়। তার মতে, সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনাই চাকরির পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ পরিচালনার অন্যতম চাবিকাঠি।
বর্তমানে ‘বাগান বিলাস’ থেকে অর্জিত আয় পরিবারের ব্যয়ে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তা তাকে আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। পেশাগত জীবনের বাইরেও সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে এই বাগানকে ঘিরে।
তারেক নিহালের উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের তরুণ ও চাকরিজীবীরাও। পটিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অনেকে তার কাছ থেকে বাগান করার কৌশল শিখছেন। কেউ কেউ তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের বাড়িতেও ছোট পরিসরে বাগান গড়ে তুলেছেন। ফলে নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছেন তিনি।
মন্তব্য করুন