উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে। দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি অংশ পরিচালনা, লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের উচ্চশিক্ষার আওতায় আনতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাফল্যের পাশাপাশি জমেছে নানা সংকটও। সেশনজট, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সীমিত সুযোগ, পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং স্নাতকদের উচ্চ বেকারত্বের মতো সমস্যা এখনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ। যদিও উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ যোগদানের পর কিছুটা সংকট কেটেছে। তবে স্নাতক শেষ করা গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হতাশা কাটেনি। ডিগ্রি অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের অনেকের দিন।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ৩৭ নম্বর আইন পাসের পরদিন গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়লেও সেই শিক্ষাকে কতটা মানসম্মত, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী করা গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১৮টি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখেরও বেশি। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। তাদের অনেকে দেশে-বিদেশে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
এত বড় শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়টির সীমাবদ্ধতা আলোচনায় আসছে বারবার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ অধিভুক্ত কলেজে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার বাইরে ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। হার্ড ও সফট স্কিল উন্নয়নের জন্য কার্যকর ক্লাব, নিয়মিত প্রেজেন্টেশন, যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির আয়োজন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রেজেন্টেশন, দলীয় কাজ, বিতর্ক, গবেষণা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক কলেজে শিক্ষার্থীরা এসব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে ভালো ফলাফল নিয়ে স্নাতক শেষ করলেও চাকরির সাক্ষাৎকার, কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, দল পরিচালনা কিংবা বাস্তব সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মন্তব্য করুন