Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১০, ২০২৬, ৩:৩১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৫:৫৪ পি.এম

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, বিক্রি অর্ধেক দামে

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার এ বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ালেও গাইবান্ধার হাট-বাজারে মিলছে না সেই মূল্য। সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছে এতিম ও অসহায়দের প্রাপ্য অর্থ। বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব ও ট্যানারিগুলোর ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখের পর লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধসের পেছনে বড় বড় ব্যবসায়ী এবং ট্যানারি সংশ্লিষ্টদের সিন্ডিকেটকেই দুষছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭-৬২ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

এই হিসাবে ঢাকার বাইরে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন থেকে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা ও হাটে সেই চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি দামের ন্যায্যতা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কোনো তদারকি নেই। বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। নানা অজুহাতে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করছেন চামড়া। আর এতে বাধ্য হয়ে ক্ষতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে পচনশীল এ পণ্য।

তবে, এমন অভিযোগের প্রশ্নে আড়তদার-ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সিন্ডিকেট এখানে নয়; কারসাজি চলে ঢাকায়। মূল ব্যবসায়ীদের (ট্যানারি মালিক) ওপর নির্ভর করে চামড়া কিনতে হয় স্থানীয় আড়তদারদের। অনেক ক্ষেত্রে তারাও জিম্মি রয়েছেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। মূলত ট্যানারি মালিকরা সরকারি মূল্যে চামড়া কিনছেন না।

এছাড়া চামড়ায় স্পট, কাটা-ছেঁড়া ও করোনা (লাম্পি রোগের ক্ষত চিহ্ন) থাকায় সঠিক দামে কেনা যাচ্ছে না বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মৌসুমি ব্যাপারী ও মাদরাসা বা এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা লবণ ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া সংরক্ষণ করতে না পারায় কমে যায় চামড়ার গুণগতমান। ফলে সে ক্ষেত্রেও চামড়ার দাম কমে আসে বলেও জানান তারা।


সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান

সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক স্টুডেন্ট নিউজ বিডি ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক প্রিন্টিং প্রেস প্রকাশিত।

Copyright © studentnewsbd. All right reserved.
প্রিন্ট করুন সেভ করুন