মঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬
Moyukh Mahbub
৪ জুন ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, বিক্রি অর্ধেক দামে

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার এ বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ালেও গাইবান্ধার হাট-বাজারে মিলছে না সেই মূল্য। সরকারি দরের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছে এতিম ও অসহায়দের প্রাপ্য অর্থ। বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব ও ট্যানারিগুলোর ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখের পর লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধসের পেছনে বড় বড় ব্যবসায়ী এবং ট্যানারি সংশ্লিষ্টদের সিন্ডিকেটকেই দুষছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭-৬২ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

এই হিসাবে ঢাকার বাইরে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন থেকে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকা ও হাটে সেই চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি দামের ন্যায্যতা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কোনো তদারকি নেই। বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। নানা অজুহাতে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করছেন চামড়া। আর এতে বাধ্য হয়ে ক্ষতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে পচনশীল এ পণ্য।

তবে, এমন অভিযোগের প্রশ্নে আড়তদার-ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সিন্ডিকেট এখানে নয়; কারসাজি চলে ঢাকায়। মূল ব্যবসায়ীদের (ট্যানারি মালিক) ওপর নির্ভর করে চামড়া কিনতে হয় স্থানীয় আড়তদারদের। অনেক ক্ষেত্রে তারাও জিম্মি রয়েছেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। মূলত ট্যানারি মালিকরা সরকারি মূল্যে চামড়া কিনছেন না।

এছাড়া চামড়ায় স্পট, কাটা-ছেঁড়া ও করোনা (লাম্পি রোগের ক্ষত চিহ্ন) থাকায় সঠিক দামে কেনা যাচ্ছে না বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মৌসুমি ব্যাপারী ও মাদরাসা বা এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা লবণ ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া সংরক্ষণ করতে না পারায় কমে যায় চামড়ার গুণগতমান। ফলে সে ক্ষেত্রেও চামড়ার দাম কমে আসে বলেও জানান তারা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার কাহালুতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ট্যাপেনডান্টল ট্যাবলেটসহ আটক

চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার হলেন যুবদল নেতা

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, বিক্রি অর্ধেক দামে

ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রাণের উচ্ছ্বাস, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

ঢাবির আইবিএএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত, ডিগ্রি পেলেন ৩৬৫ গ্র্যাজুয়েট

ঈদে আসছে জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’

আবারও কলেজ র‍্যাংকিং প্রকাশ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ লেখক-পাঠক সংসদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

অনাস্থা ভোটে হেরে রোমানিয়ায় সরকারের পতন

ইফএফটিতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা, নেপথ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সফটওয়্যার

১০

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল অধিদপ্তর

১১

ত্রয়োদশ সংসদে ‘একমাত্র ভাগ্যবান দম্পতি’

১২

ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে

১৩

আগারগাঁওয়ের সরকারি সংগীত কলেজের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন একদল শিক্ষার্থী

১৪

রিভিউ হতে পারে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, কমিটির ইঙ্গিত মন্ত্রীর

১৫

“জন্ম-মৃত্যুর পরিক্রমায় প্রতীত্য সমুৎপাদ তত্ত্ব/নীতি”

১৬

বিটাকে এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি, আছে প্রশিক্ষণ ভাতাও

১৭

১৮০ দিনের মধ্যে প্রতি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে

১৮

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় তিনটি বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষকে জরিমানা

১৯

ঈদযাত্রার সময়সূচি গড়বড় হয়েছে, যে সময় রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্টেশন পরিদর্শনে আসেন

২০