দিল্লির জন্তর মন্তর কার্যত এখন দুর্গ। ত্রিশ হাজার পুলিশ, ব্যারিকেড ড্রোন দিয়ে ঘেরা সেই দুর্গ । আর সেই দুর্গ ভাঙার ডাক দিচ্ছে ঊনত্রিশ বছর বয়সী এক ছাত্রী নেহা বোরা। থিয়েটার থেকে উঠে আসা এই ছাত্রনেত্রীই এখন মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।
কে এই নেহা বোরা? তিনি উত্তরাখণ্ডের মেয়ে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটারে পিএইচডি করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসা তথা অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের। দুই হাজার উনিশ এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলন থেকে তার উত্থান। আর এখন সে মুখপাত্র ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ভোটার লিস্ট আন্দোলনের।
বর্তমান আন্দোলনকারীদের অভিযোগ– তেরো কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চায়। এগারোই অক্টোবর পুলিশ জন্তর মন্তরের আন্দোলন বন্ধ করে দেয়। তখনই নেহা বোরা সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন, “দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর।” আর সেই ঘোষণা ভাইরালও হয়।
এরপর আন্দোলনে আইএনএ মার্কেটের কাছে তাকে আটক করা হয় যোগেন্দ্র যাদব প্রশান্ত ভূষণদের সাথে। কিন্তু পুলিশ ভ্যান থেকেও তিনি বললেন, আমি আটক, আন্দোলন নয়।’
শুধু যোগেন্দ্র যাদব কিংবা নেহা বোরাই নয়– একদিনেই দুই থেকে হাড়াই হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
এমন অবস্থায় একদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে তারা নিরপেক্ষ, অন্যদিকে বিজেপি বলছে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আবার সুপ্রিম কোর্ট বলছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আটকানো যাবে না। আর মাঝখানে নেহা বোরা। রয়টার্স যাকে বলছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জেন-জি চ্যালেঞ্জ। থিয়েটারের স্ক্রিপ্ট ছেড়ে সে এখন লিখছে দিল্লির রাজপথের স্ক্রিপ্ট।
মন্তব্য করুন