
আর্জেন্টিনার জার্সিতে আজ শেষবারের মতো মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও একটি গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আবেগঘন বক্তব্য দেন মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সেই পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
‘আজ কী বলব, সেটাই বলা কঠিন। এত আবেগ, এত কিছু মাথার মধ্যে ঘুরছে। প্রথমেই আমার বাবার কথা মনে পড়ছে। বিদায়ী চিঠিতে যেমন বলেছি, এখন আমার করার মতো একটাই কাজ—কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
২০ বছরেরও বেশি সময় এই জার্সি পরতে পারা আমার জন্য ছিল অনেক বড় সম্মানের। আমরা যত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই পড়েছি না কেন, আমি কখনো লড়াই থামাইনি, কখনো নিজের সবটুকু দেওয়া থেকে পিছিয়ে আসিনি, কখনো দলের পাশে থাকা বন্ধ করিনি। আর ফিরে আসতে না পারাটা আমার জন্য অনেক বড় কষ্টের হবে। সত্যি বলছি, জীবনের বাকি সময়টাও আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন ফুটবলারের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।
আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এখনই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কিছু ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছাকাছিও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, সেখানে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।
তবু আমরা সব সময়ের মতোই লড়াই করেছি, এই জার্সির জন্য যেমনটা সব সময় করে এসেছি। যেসব সতীর্থের সঙ্গে এই জার্সি ভাগ করে নিয়েছি, তাদের নিয়েও আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমার পাশে থাকা প্রত্যেকেই সব সময় জাতীয় দলের জার্সির জন্য নিজেদের সবটুকু দিয়েছে।
এই দলের সঙ্গে যে সময়টা কাটিয়েছি, তার জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার, আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার, ফিনালিসিমা জেতার, আমরা যে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় খেলেছি সেগুলোর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। মাঠে ও মাঠের বাইরে তাদের সঙ্গে সময় কাটানো আমার জন্য ছিল বিশাল সম্মানের।
আমি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকতাম। কারণ আমি জানতাম, আমার পাশে যোদ্ধারা আছে, যারা নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়বে।
মন্তব্য করুন