
লিওনেল মেসির বিদায়ী ভাষণকালে এমন একটি মুহূর্ত ফুটে ওঠেছে, যা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আজ মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর মেসি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার পেছনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ।
রোজারিওর এই বিশ্বজয়ী মহাতারকার প্রতি এনজোর ভালোবাসা ও ভক্তির কথা সর্বজনবিদিত। ২০১৬ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে যখন মেসি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন আবেগঘন এক চিঠি লিখে তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন এনজো। এরপর ২০২৬ সালে যখন মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন, তখনও সেই পুরনো স্মৃতি ভেসে ওঠে।
চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি যখন বলেছিলেন যে চলে যাচ্ছেন, আমার বড্ড কষ্ট হয়েছিল। তখন আমি ছোট ছিলাম, আর মনে মনে হিসেব কষছিলাম আপনার বয়স আর আমার বয়সের পার্থক্য নিয়ে—কোনোদিন আপনার সাথে ফুটবল মাঠে নামার সুযোগ পাব কি না!’
মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার বাইরেও তার মানবিক দিকটির কথা স্মরণ করে এনজো ফার্নান্দেজ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে আপনি আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন, তার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এখানে এসেছিলাম আমার আইডলের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু তার বদলে আমি এমন একজনকে পেয়েছি, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে এই দলেরই একজন হিসেবে অনুভব করিয়েছেন।’
বৃত্তটি যেন পূর্ণতা পেল চমৎকারভাবে, আর এনজোও সেটি প্রকাশ করলেন নিজের ভাষায়— ‘আমি কত ভাগ্যবান ছিলাম, লিও! সেই ছোট বাচ্চাটা যে হিসেব কষছিল, কত ভাগ্যবান ছিল সে! আমার সাথে এই আচরণ করার জন্য, আমাকে সবকিছু শেখানোর জন্য এবং আপনার গল্পের একটি অংশ আমাকে হতে দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
মন্তব্য করুন