ওয়ানডে যে এখন আর বাংলাদেশের নিশ্চিত সাফল্যের সংস্করণ নয়, পারফরম্যান্সেই প্রতিনিয়ত মিলছে তার প্রমাণ। ব্যাটিং-বোলিং—কোনো বিভাগেই ইতিবাচক কিছু দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটের টানা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে যেন বের হতেই পারছে না বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধস নামা কিংবা চরম দায়িত্বহীনতায় প্রতি ম্যাচেই কাঠগড়ায় তুলতে হচ্ছে ব্যাটারদের সামর্থ্যকে।
আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচামরার লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর রশিদ খান-ফজলহক ফারুকীদের বিপক্ষে শারজার মাঠে তৌহিদ হৃদয়দের পরীক্ষাটা হবে আরও কঠিন। ফাইনালে ওঠার এই অসম লড়াইয়ের আগে প্রেস কনফারেন্সে ঘুরেফিরেই এলো ব্যাটিং বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ।
বাংলাদেশের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বিশ্বাস, নিজেদের স্বভাবজাত বা ‘ব্র্যান্ডের’ ক্রিকেট খেলতে পারলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
টানা হারের ধাক্কা আর কাঠগড়ায় ওঠা ব্যাটিং ইউনিট নিয়ে তীব্র সমালোচনার মাঝেও সতীর্থদের সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই তানজিদের। স্কিল কিংবা ফিটনেসে কোনো ঘাটতি দেখছেন না তিনি; বরং মানসিকতায় ইতিবাচক বদল এনে ঘুরে দাঁড়াতে পূর্ণ আস্থা রাখছেন দলের স্বকীয় ‘ব্র্যান্ড ক্রিকেটে’।
তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রিয় ফরম্যাটে হারের পেছনে তেতো সত্যও মেনে নিয়েছেন এই ওপেনার। নিজের ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি নিজস্ব ‘ব্র্যান্ডের’ খেলায় ফেরার পথ তুলে ধরে তামিম জানান, “আসল কথা হলো, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি; প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে বেটার খেলেছে। সে কারণেই তারা জিতেছে আর আমরা হেরেছি। তাই আমার মতে, যেদিন আমরা নিজেদের আসল ‘ব্র্যান্ড’ অনুযায়ী টপ ক্লাস ক্রিকেট খেলতে পারব, সেদিনই যেকোনো ম্যাচে ভালো ফল করা সম্ভব।”
শারজায় আফগানদের বিপক্ষে নতুন কোনো বাংলাদেশকে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে রেখেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার, “আমরা সবসময়ই দলকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে আলাদা ব্যক্তির চেয়ে দলীয়ভাবে আমরা যত বেশি ধারাবাহিক হতে পারব, তত দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।”
একই সাথে ব্যাটারদের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতার ঘাটতি ও চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পেছনে আসল জটটি কোথায়, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমার মনে হয় ধারাবাহিকতা এবং সঠিক মানসিকতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটির সমন্বয় যখন সঠিক হবে, তখনই আমরা কঠিন চাপের মুখেও ইতিবাচক কিছু করে দেখাতে পারব।”
আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ জিম্বাবুয়ের চেয়ে ঢের শক্তিশালী। এখন দেখার বিষয়, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের স্বকীয় ‘ব্র্যান্ডের’ ক্রিকেট খেলে রশিদ-ফারুকীদের ধাঁধা পেরিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটতে পারেন কি না শান্ত-হৃদয়রা।
মন্তব্য করুন