নাটোরে কলেজপড়ুয়া নাতনিকে রক্ষা করতে গিয়ে হালিমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা অ্যাসিডে দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর আদর্শ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হালিমা বেগমের মেয়ে ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত নারী সদস্য চামেলি বেগমের দাবি, প্রতিবেশী নাজু, নজরুল, মাসুদ ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সেই শত্রুতার জেরে তারাই অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে হালিমা বেগম তার কলেজপড়ুয়া নাতনির সঙ্গে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা কলেজপড়ুয়া নাতনির লক্ষ্য করে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। ঘটনা বুঝতে পেরে হালিমা বেগম তাৎক্ষণিক নাতনিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেও নিজে অ্যাসিডে দগ্ধ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে থেকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, চামেলি বেগম ও তার প্রতিবেশী নাজু, নজরুল ও জাহাঙ্গীরের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোক্তাদির আরেফিন জানান, অ্যাসিডে দগ্ধ হয়ে আজকে ভোরে হালিমা বেগম নামে একজন বৃদ্ধা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, চামেলি বেগম ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা ও মারামারিসহ ৭-৮টি মামলা চলমান রয়েছে।
অ্যাসিড নিক্ষেপে বৃদ্ধা দগ্ধ হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন