প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ক‍্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এখন পযর্ন্ত টেস্ট খেলেছে ১২০ টি, তার মধ‍্যে মুশির টেস্ট সংখ‍্যা ১০০!
ফিটনেস কতটা শক্তিশালী আর মনোভাব কতটা দৃঢ় হলে এমন অবিশ্বাস্য রেকর্ড করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই ক্রিকেটার।

২০০৫ সালে আন্তজার্তিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের। তারপর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ ক্রিকেটে দিয়ে চলেছেন নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস। একের পর এক জয় আর ইতিহাসের সাক্ষী করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন‍ন‍্য উচ্চতায়।

শিশুসুলভ চেহারা নিয়ে ১৮ বছর ১৭ দিন বয়সে ক্রিকেটের হোম লর্ডসে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেকের দিন অভিষেক হয়েছিল পেস বোলার শাহাদত হোসেন রাজীবেরও। ১০ বছর আগে ৩৮ টেস্টে থেমেছে তার টেস্ট ক্যারিয়ার।

আড়াই বছর পর টেস্ট অভিষিক্ত হওয়া তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ার থেমেছে আড়াই বছর আগে, ৭০ এ থামতে হয়েছে তাকে। মুশফিকুর রহিমের ২ বছর পর টেস্ট শুরু করে সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৭১ টেস্টে এসে আটকা পড়েছেন। বছরে যে দেশ গড়ে ৬.২৪ টি টেস্ট খেলাকে নিয়তি বলে মেনে নিয়েছে, সেই দেশের কোনো ক্রিকেটার একদিন টেস্টের সেঞ্চুরি পূর্ণ করবেন-এটা এক সময়ে স্বয়ং মুশফিকুর রহিমও কল্পনা করতে পারেননি।

লর্ডসে টেস্ট অভিষেকের আগে তিনদিনের ওয়ার্ম আপ ম্যাচে সেঞ্চুরি করে বৃটিশ মিডিয়ার আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। অথচ, সেই মুশফিকুর রহিমের অভিষেক ইনিংস থেমেছে হোগার্ডের বলে বোল্ড আউটে, ১৯ রানে। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ২৬ মাসে ২ টেস্টের পারফরমেন্স ছিল হতাশাজনক। লর্ডসে ১৯ এবং ৩ রানে থেমে যাওয়ার পর হোম গ্র্যাউন্ড বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে২ ও ০! এমন পারফরমেন্সে টেস্টে টিকে থাকা নিয়ে ছিল অশনি সংকেত। কামব্যাক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পি সারা ওভালে ২৩৫ মিনিটের সংযমী ব্যাটিংয়ে ৮০ রানের ইনিংসে নির্বাচকদের নজরে এসেও প্রতিদ্বন্দ্বী ধীমান ঘোষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল মুশফিককে। ভারতের বিদ্রোহী ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর আইসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলার অপরাধে ধীমান ঘোষের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় টেস্টে টিকে যান মুশফিকুর রহিম। ৩৩তম ইনিংসে এসে দেখেছেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। মিরপুরে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই ইনিংসের পর ২৬ টেস্ট বিরতি দিয়ে পেয়েছেন সেঞ্চুরি। গল-এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরিটি আবার বাংলাদেশের প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (২০০)। বাংলাদেশের পক্ষে শুধু প্রথম ডাবলই নয়, টেস্টে সর্বোচ্চ ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংসটিও তার। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির ভেন্যু মিরপুরে, তিনটি ডাবলের ২টি তার প্রিয় এই ভেন্যুতে। সেই ভেন্যুতেই পূর্ণ করেছেন টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি।

ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, ভারতের সুনীল গাভাস্কার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড, অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ,দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কারস্টেন, শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া, নিউ জিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর সেঞ্চুরি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ইতিহাসের রচয়িতা মুশফিকুর রহিম।

তার এই বিশেষ ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজের ৯৯ নম্বর টেস্ট পর্যন্ত রং চটা টেস্ট ক্যাপটি ছিল মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী। শততম টেস্ট উপলক্ষে মুশফিককে বিশেষ ক্যাপ উপহার দিয়েছেন হাবিবুল বাশার।

সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানও দিয়েছেন বিশেষ উপহার। মুশফিকের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের জার্সিতে স্বাক্ষর করা টিমমেটদের জার্সি ফ্রেমে বাধাঁই করে উপহার দিয়েছেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং হাবিবুল বাশার সুমন।

মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট উদযাপন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী, পুত্র-কন্যা। টসের পর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে এমন মাইলফলক স্পর্শ করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেছেন-

‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক শ ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি।’

শতভাগ দিয়েছেন অতীতে, শততম টেস্টেও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখছে না সমর্থকরা। শততম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৯৯ রান নিয়ে আছেন ব্যাটিংয়ে। আর মাত্র ১ রান হলেই ১১ তম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি দিয়ে সেঞ্চুরি টেস্ট উদযাপন করবেন মুশফিকুর রহিম। ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রীনিজ, ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ইংল্যান্ডের জো রুট এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে এলিট তালিকায় নাম লেখানোর সামনে এখন দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *