Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ৩:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৪, ২০২৬, ১২:১১ পি.এম

সুলতানপুর থেকে সান্তাহার: বাংলাদেশের বৃহত্তম রেল ইয়ার্ডের ১৫০ বছরের ইতিহাস! | Santahar Junction

ব্রিটিশ আমলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াতের রুট হিসেবে প্রথম সান্তাহার স্টেশন চালু হয়। শুরুতে এটি কেবল ব্রডগেজ লাইনের স্টেশন ছিল।
শুরুর দিকে এই স্টেশনের নাম ছিল সুলতানপুর। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী 'সাঁতাহার' গ্রামের নামানুসারে এর নাম পরিবর্তন করে 'সান্তাহার' রাখা হয় এবং ১৯৪৭ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সান্তাহার নামে পরিচিতি পায়।
জংশনে রূপান্তর (১৯০১ সাল): ১৯০১ সালে বোনারপাড়া-সান্তাহার মিটারগেজ লাইন চালু হওয়ার পর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশনে পরিণত হয়।

সান্তাহার তুমি কার ?? নওগাঁর নাকি বগুড়ার ??প্রিয় দর্শক,"বাংলাদেশ রেলওয়ের মানচিত্রের দিকে তাকালে এমন কিছু স্টেশনের দেখা মেলে, যা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং একেকটা জীবন্ত ইতিহাস। আজ আমরা আপনাদের নিয়ে এসেছি উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত, ঐতিহ্যবাহী এবং বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রেল ইয়ার্ডের অধিকারী এক জংশন স্টেশনে। হ্যাঁ বন্ধুরা, আমি কথা বলছি বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সান্তাহার জংশন রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে! প্রতিদিন প্রায় ৪০টিরও বেশি ট্রেন এই স্টেশনের বুক চিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যায়। কিন্তু আপনারা কি জানেন, আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে এই স্টেশনের নাম সান্তাহার ছিল না? এর নাম ছিল সুলতানপুর! কেন এর নাম পরিবর্তন হলো? কী এর ইতিহাস?

ভৌগোলিক দিক থেকে সান্তাহার জংশনটি অত্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক একটি অবস্থানে রয়েছে। এটি মূলত বগুড়া জেলায় অবস্থিত হলেও এর ঠিক পাশেই নওগাঁ জেলার সীমানা। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় কিংবা লালমনিরহাট— আপনি দেশের যে প্রান্তেই যান না কেন, উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সচল রাখতে সান্তাহার এক বিরাট যোগসূত্র তৈরি করেছে। ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ— দুই ধরণের রেললাইনের এই অভূতপূর্ব মিলনমেলা সান্তাহারকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।"

"ইতিহাসের পাতা উল্টালে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৮৭৮ সালে, আজ থেকে প্রায় ১৪৭ বছর আগে! তখন অবিভক্ত বাংলায় ব্রিটিশ শাসন চলছে। কলকাতা (তৎকালীন ক্যালকাটা) থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য ব্রিটিশরা রেল রুট তৈরি করছিল। সেই সময় এই স্টেশনটি চালু করা হয়। শুরুতে এর নাম দেওয়া হয়েছিল সুলতানপুর।১৮৯৯ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে 'ব্রহ্মপুত্র-সুলতানপুর রেলওয়ে কোম্পানি' সান্তাহার থেকে ফুলছড়ি পর্যন্ত ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মিটারগেজ লাইন স্থাপন করে। এর ফলে স্টেশনটি একটি জংশনে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে যখন ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হয়, তখন এই রুটের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায় এবং ১৯২৪ সালের মধ্যে সান্তাহার-পার্বতীপুর সেকশনটি ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়।"

"এখন প্রশ্ন আসে, সুলতানপুর থেকে কীভাবে এটি 'সান্তাহার' হলো? এর পেছনে ঐতিহাসিক কোনো অকাট্য দলিল না থাকলেও স্থানীয়দের মাঝে চমৎকার একটি লোককথা প্রচলিত আছে। বলা হয়ে থাকে, প্রাচীনকালে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে বিশ্রাম নিত এবং আহার বা খাওয়া-দাওয়া করত। 'সান্ত' মানে শান্তি বা ক্লান্তি দূর করা, আর 'আহার' মানে খাওয়া। এই ক্লান্তি শেষে আহার করার স্থান থেকেই নাকি লোকমুখে শব্দ দুটি জোড়া লেগে তৈরি হয় 'সান্তাহার'! ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর স্টেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তাহার নামে পূর্ণ পরিচিতি পায়।"

"সান্তাহারের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল রেল ইয়ার্ড। এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় এবং বিখ্যাত রেল ইয়ার্ড বা লোকোশেড বলা হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে কয়লা ও পানির বিশাল মজুদ থাকত ট্রেনের ইঞ্জিনের জন্য। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন শত শত মালবাহী ট্রেনের ওয়াগন খালাস, নতুন করে সাজানো এবং ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। এখানে রয়েছে আধুনিক ট্রেন ধৌতকরণ বা ওয়াশিং প্ল্যান্ট, যা এই জংশনের কার্যক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।"

"বর্তমানে সান্তাহার জংশনে ৫ থেকে ৬টি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এখানে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা খোলা টিকিট কাউন্টার, রেলওয়ে থানা এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য খাবারের সুব্যবস্থা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন করা হলেও, এর আনাচে-কানাচে এখনো শত বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট।"


সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান

সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক স্টুডেন্ট নিউজ বিডি ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক প্রিন্টিং প্রেস প্রকাশিত।

Copyright © studentnewsbd. All right reserved.
প্রিন্ট করুন সেভ করুন