বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জালশুকা-খাউড়া ব্রিজ এলাকাটি বর্ষাকালে চারপাশের থৈ থৈ পানি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্থানীয়ভাবে অনেকে একে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন বা আকর্ষণীয় কোনো পর্যটন স্পটের মতো মনে করেন। বর্ষার সময়ে এর চারপাশের রূপ সম্পূর্ণ বদলে যায়, যা দেখতে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করেন
অনেকেই হয়তো এই জায়গাটির নাম প্রথমবার শুনছেন। এটি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি জালশুকা গ্রাম এবং এর পাশেই খাউড়া বিল ও করতোয়া নদীর একটি সংযোগস্থল। একসময় এই এলাকাটি সাধারণ একটি গ্রামীণ পথ ছিল। কিন্তু এই দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ এবং পাকা রাস্তাটি হওয়ার পর, বর্ষাকালে এখানকার রূপ পুরো বদলে যায়। করতোয়া নদী আর খাউড়া বিলের পানি যখন এক হয়ে যায়, তখন এই ব্রিজটি হয়ে ওঠে এক টুকরো দ্বীপের মতো।"
"জালশুকা ব্রিজের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে আসতে হবে বর্ষাকালে, বিশেষ করে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। শুকনো সময়ে এখানে শুধু সবুজ ফসলের মাঠ চোখে পড়লেও, বর্ষায় চারপাশ থৈ থৈ পানিতে ভরে যায়।এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—বিকেলের মৃদু বাতাস আর অন্তহীন জলরাশি। আপনি যখন ব্রিজের ওপর দাঁড়াবেন, আপনার মনে হবে আপনি কোনো সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে সবুজ গ্রাম, অন্যদিকে দিগন্তজোড়া পানি। আর এখানকার সূর্যাস্ত? ওহ, সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি! আকাশের লাল-নীল আভা যখন বিলের পানিতে মিশে যায়, সেই দৃশ্য আপনার শহরের সব ক্লান্তি এক নিমেষে দূর করে দেবে।"
প্রকৃতির এই সৌন্দর্য তো দেখলেন, এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক এখানে আপনি কীভাবে আসবেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে বগুড়া শহরে।
ধাপ ১: ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে বাসে এসে নামবেন বগুড়ার চারমাথা অথবা ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালে।
ধাপ ২: সেখান থেকে শহরের প্রাণকেন্দ্র 'সাতমাথা'-য় চলে আসুন। ভাড়া নেবে ১০ থেকে ২০ টাকা।
ধাপ ৩: সাতমাথা থেকে আপনি সরাসরি সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ করতে পারেন জালশুকা বা খাউড়া ব্রিজের উদ্দেশ্যে। অথবা শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্ট এলাকা হয়েও যাওয়া যায়। রিজার্ভ ভাড়া পড়বে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। আর যদি ভেঙে ভেঙে যেতে চান, তবে সাতমাথা থেকে প্রথমে শাজাহানপুর বা রানীরহাট গিয়ে সেখান থেকে লোকাল ইজিবাইকে সরাসরি ব্রিজে পৌঁছাতে পারবেন। রাস্তা খুবই চমৎকার, তাই যাতায়াতে কোনো কষ্ট হবে না।"
এখানে ঘোরার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার জন্য ব্রিজের আশেপাশেই কিছু লোকাল দোকান পেয়ে যাবেন। গরম গরম চা, ফুচকা, চটপটি আর ভাজাপোড়া খাওয়ার জন্য এগুলো দারুণ। তবে ভারী খাবার বা দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে বগুড়া শহরে ফিরে আসাই ভালো হবে। যেহেতু এটি একটি উদীয়মান পর্যটন এলাকা, তাই এখানে বড় কোনো রেস্তোরাঁ এখনো গড়ে ওঠেনি।
কিছু জরুরি টিপস:
১. যেহেতু চারপাশে প্রচুর পানি থাকে, তাই বাচ্চাদের সাথে নিয়ে এলে সাবধানে রাখবেন।
২. পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন, স্রোত থাকতে পারে।
৩. নৌকাভ্রমণ করতে চাইলে স্থানীয় মাঝিদের সাথে দরদাম করে নৌকা ভাড়া করুন। ঘণ্টাপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকায় নৌকা পাওয়া যায়।
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—আমাদের পরিবেশ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। চিপসের প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল যেখানে-সেখানে ফেলে এই সুন্দর জায়গাটি নোংরা করবেন না।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক স্টুডেন্ট নিউজ বিডি ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক প্রিন্টিং প্রেস প্রকাশিত।
Copyright © studentnewsbd. All right reserved.