সেঞ্চুরি করেছেন দুই দলের অধিনায়কই। তবে বিফলে গেল অস্ট্রেলিয়ার ওলিভার পিকের শতক। শুরুতে হোঁচট খেলেও অধিনায়কের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে অপরপ্রান্ত থেকে পেলেন না কোনো সমর্থন। শেষ পর্যন্ত বরাবর ১০০ করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলেন পিক। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।
জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ অস্ট্রেলিয়াকে ২৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে থমাস রিউয়ের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তোলে ইংলিশরা। রাত তাড়ায় ৪৭.৩ ওভারে ২৫০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন থমাস রিউ। ১৪ চার ও এক ছক্কায় ১০৭ বল খেলে ১১০ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড শুরুতে ৬০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তারপর দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন রিউ ও ক্যালেব ফ্যালকনার। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইংলিশদের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ করেন ফ্যালকনার। শেষ দিকে ফারহান আহমেদ অপরাজিত ছিলেন ২৮ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে দু’টি করে উইকেট নেন হেইডেন শিলার এবং নাডেন কুরে।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২৪.২ ওভার শেষে অজিদের স্কোর ছিল ১০৯/২। ওপেনার নিতেশ স্যামুয়েল ৮৩ বলে করেন ৪৭ রান। তবে বাঁহাতি স্পিনার রালফি অ্যালবার্টের বলে টমাস রিউর স্টাম্পিংয়ে স্যামুয়েল আউট হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
তারপর ম্যানি লামসডেন দ্রুতই অ্যালেক্স লি-ইয়াং ও জেইডেন ড্রেপারকে ফেরান। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে মিডল অর্ডারের তিনটি উইকেট হারায়। অলি পিক পাল্টা লড়াই শুরু করেন। ৫৫ বলে অর্ধশতক করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রাণ ফেরান তিনি। ২০৭ রানে অষ্টম উইকেট পতন ঘটলে ইংল্যান্ডের জয় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি পিক। লামসডেনের এক ওভারে ২২ রান নেন এবং সেবাস্টিয়ান মর্গানের বলে চার্লস লাখমুন্ড আউট হওয়ার পর ৮৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
শেষ ১৬ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৮ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। কিন্তু জেমস মিন্টোর বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে বেন মেয়েসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পিক। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড শিবির।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক থমাস রিউ বলেন,
‘অনুভূতিটা দারুণ। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে। অলি (পিক) যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা অসাধারণ। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে পারাটা বিশেষ কিছু। শেষদিকে আমি নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু বোলারদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম—চাপের মধ্যে ইয়র্কার ঠিকঠাক করার জন্যই ওরা অনুশীলন করেছিল।’
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে একবার—১৯৯৮ সালে। ২০২২ সালে তারা রানার্সআপ হয়েছিল। আগামীকাল অন্য সেমি ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। শুক্রবার হবে যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মেহেদী হাসান
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক স্টুডেন্ট নিউজ বিডি ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক প্রিন্টিং প্রেস প্রকাশিত।
Copyright © studentnewsbd. All right reserved.